Center For Research In Indo

Author name: admin

বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন ও ভারতের অবদান।

শঙ্কর সরকার, বাংলাদেশ   ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের  মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম। একটি শিশুর জন্মের সময় মায়ের যে ভূমিকা বাংলাদেশের জন্মের সময় ভারতের ভূমিকাও সেইরূপ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সেই অতীত অবদানের কথা নতুনভাবে এখানে লেখার প্রয়োজন নেই, তবে আমারা মনে করি  হয়ত ভারতের তৎকালীন  সরকার মনে করছিলেন পাশাপাশি নেপাল ভুটান শ্রীলঙ্কা আয়তনে, লোকবল অর্থবলে বাংলাদেশের  চেয়ে অনেক কম হয়ে যদি একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশও একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে অবশ্যই থাকবে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের মত স্বদেশকে গড়ে তুলতে পারবে। অথচ চীন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকাকালীন   স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয় নাই।   সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি: ইয়াও  ওয়েন বলেন  গত চুয়াত্তর বছরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চীন যুগান্তকারী পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পথ অতিক্রম করেছে আর সৃষ্টি করেছে দুটি বিস্ময়, বিশ্বের অন্য কোথাও যার জুড়ি মেলা ভার, যেমন দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতা। চীনা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত  সমাজতন্ত্রের পথ ধরে চীনা জনগণ কেবল তাদের মাতৃভূমিকে সুগভীর উন্নয়নমূলক পরিবর্তন সাধন করেনি বরং বিশ্বকে উন্নত করেছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন আধুনিকীকরণের চীনা পথে রয়েছে অতুলনীয় জীবনীশক্তি। সর্বক্ষেত্রে একটি মধ্যপন্থী সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের প্রথম শতবর্ষী লক্ষ্য অর্জনের পর, চীনা জনগণ এখন চীনকে সর্বক্ষেত্রে  একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দ্বিতীয় শতবর্ষী লক্ষ্যের দিকে কঠিন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।     বিশ্ব ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে তা সত্ত্বেও চীনের অর্থনৈতিক শক্তি নিজস্ব মানদণ্ড সুরক্ষিত রেখে এবং নিজ গুণমানের  উন্নতির মাধ্যমে কঠোর চাপের মুখেও টিকে আছে। এ বছরের প্রথমার্ধে চীনের জিডিপি ৫৯.৩ ট্রিলিয়ন আর এম বি  ছাড়িয়েছে, যেখানে বছরে প্রবৃদ্ধি ৫.৫ শতাংশ যা গত বছরের ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারের চেয়ে বেশি এবং একই  সময়ের মধ্যে অন্যান্য অনেক বড় উন্নত অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আইএম এফের (IMF) মতে চীনের অর্থনীতি ৫.২ শতাংশ প্রসারিত হবে যা বিশ্ব অর্থনীতির মোট প্রবৃদ্ধির এক তৃতীয়াংশ অবদান রাখবে।   চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক  ২০১৬ সালে সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয় এবং ২০১৯ সালে গভীর হয়। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৈঠক করেন যেখানে তাঁরা উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অধিকতর উন্নয়নের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। চীন ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নিজ নিজ মূল স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়টি একে অপরকে সমর্থন করে। চীন জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এবং বহিরাগত  হস্তক্ষেপের বিরোধীতায় বাংলাদেশকে  সমর্থন করে,  যাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে এবং উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবন অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে একচীন নীতি অনুসরণ করে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে চীন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে তার প্রশংসা করে। চীন ও বাংলাদেশ যৌথ উন্নয়নের ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এই বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিঙয়ের হাত ধরে বি আর আই (The Belt and Road Initiative) এর যাত্রার দশম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে।  দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশই  প্রথম বি আর আইতে যোগদান করে। গত সাত বছরে বি আর আই বঙ্গোপসাগরে শিকড় গেড়েছে এবং প্রস্ফুটিত  হয়েছে।  পদ্মা বহুমুখী  সেতু এবং এর রেল যোগাযোগে গত আগস্ট পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার ৯৩৩.৫৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতুতে সর্বমোট ব্যয় হবে ৩৯২৪৬ কোটি টাকা যা বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য একটি আশীর্বাদ স্বরূপ।      বঙ্গোপসাগরের মোহনায়  কর্ণফুলী নদীর তলদেশে  ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের মাধ্যমে উভয় পাশের  যোগাযোগের ৩ থেকে ৪ ঘন্টার দূরত্ব ৫ মিনিটেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে।  উল্লেখ্য কর্ণফুলী নদীর এই টানেল নদীর তলদেশে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম। তাছাড়া দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্প এবং আরও অনেক এরূপ প্রকল্পের ন্যায় মেগা প্রকল্পগুলি একের পর এক চীন বাংলাদেশে সম্পন্ন করছে যা বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবং অবকাঠামো  উন্নয়ন ও দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।  তাছাড়া চীনের ইকোনমিক জোন পাল্টে দেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বি আর আইয়ের প্রশংসা করে বলেন যে এটি বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের একটি নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের উচিত উন্নয়নের ঐতিহাসিক সুযোগগুলো কাজে লাগানো। উন্নয়ন কৌশলগুলো আরও একীভূত করে উচ্চমাত্রার উন্নয়নের লক্ষ্যে বেল্ট অ্যাণ্ড রোড সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া এবং একে অপরের পরিপূরক ও সম্পূরক হিসেবে দুই দেশের নিজ নিজ অর্থনৈতিক সুবিধা কাজে লাগানো। বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি, নতুন জ্বালানি এবং কৃষি।  পরস্পরের সমর্থনকারী চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে ভালো ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক। এই বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এর প্রস্তাবিত চীন এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা, পারস্পরিক সুবিধা এবং  অন্তর্ভুক্তির নীতির দশম বার্ষিকী। এক দশক ধরে চীন এই কুটনৈতিক  নির্দেশনা মেনে চলেছে এবং সক্রিয়ভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া বেশি বেশি যোগাযোগের মাধ্যম  জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে সৃষ্টি হয়। এই লক্ষ্যে চীন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং কর্মী বিনিময়ের বিশাল চাহিদা মেটাতে একাধিক সুবিধামুলক ব্যবস্থা  চালু করেছে। আপাতত ঢাকা ও চীনের নির্দিষ্ট শহরগুলোতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ৫০টি সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ১০ হাজার লোকের যাতায়াত সম্ভব। এই বছর বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাস এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, থিঙ্কট্যাঙ্ক এবং তরুণদের কয়েক ডজন প্রতিনিধির চীন সফরের ব্যবস্থা করেছে। বিনিয়োগ ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা চীনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহের ও চীনা নাগরিকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ভারতের অবস্থান চীনের থেকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও বাণিজ্য ভারত বাংলাদেশের সাথে চীনের তুলনায় অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।  বাংলাদেশে যখন  তোফায়েল আহমেদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তখন ভারতের চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসেন এবং তারা বাংলাদেশে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস,  সিরামিকস, সিমেন্ট, রড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তখন বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন ভারত না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। তিনি বলেছিলেন ‘ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসলে প্রয়োজনবোধে আলাদা জোন করে দেওয়া হবে’। বিষয়টি ভারতের আবার বিবেচনা করা দরকার কারণ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাবেক ব্রিটিশ আমলের রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথে, আকাশপথে সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করেছেন।       বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিক যাহা বিবিধ কঠিন চুক্তি  অনুযায়ী সীমাবদ্ধ কিন্তু ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক যৌথ উন্নয়নের অংশীদারিত্ব মূলক এবং কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত নেপাল ভুটান চতুর্দেশীয় উন্নয়নমূলক। এই সকলের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান …

বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন ও ভারতের অবদান। Read More »

The Marmas of Bangladesh:  A Historical Profile of their Accommodation

Swapna Bhattacharya, former Professor and Head, South & Southeast Asian Studies, Calcutta University     This writing restricted in its scope of projecting on some aspects of the History of the Marmas of Chittagong Hill Tracts of Bangladesh comes from my heart.  The present contribution should also be read as a logical continuation of my previous one, published in this E. journal. Thus, to avoid repetition, facts about the northern Rakhine Muslims                 (Rohingyas) already  highlighted there, have been kept outside focus. Nevertheless, the uncertain repatriation or   challenging rehabilitation of the Rohingyas in general directly affects the Buddhist communities of CHT, the Marmas included.  A recent publication entitled Rohingya Crisis; Response in Bangladesh adequately addresses the concern.   Over the last few decades a large number of articles, Occasional papers and a few books on this corner of Bangladesh-Myanmar-Northeast India could be produced by me, a part of which has been included in the bibliography. Such gifts I could present before my readers as I had the fortune to meet many scholars at international conferences, workshops etc.  and senior Rakhine monks, based in India and beyond.   The History of Nation building process is an extremely fascinating phenomenon,   in which the combined force of faiths and institutions plays an extremely constructive role. The Rakhine Buddhism and the Rakhine spirit of accommodation ( of various faiths and ideas) contributed a lot in this regard. Among many thinkers of India, Gurudev Rabindranath Tagore   and Dr. B. R. Ambedkar( S. Bhattacharya, 2015 &  2019)  could read this asset  in the Rakhine people. The Marmas of CHT numerically a tiny community though, faithfully follow the Dhamma ( the righteous Path) and it is high time that the  young generation in India  should know more about this “forgotten ” chapter of combined History of Bangladesh-India-Myanmar.  After all, Bangladesh and Myanmar are the two most trusted regional partners for India.  All three countries have strong institutional bodies (Government, private, academic, religious), Think tanks,  and vibrant civil societies .  Thus, future challenges, if any, can certainly be fought out  and solved  jointly.   The CHT, or Chittagong Hill Tracts of Bangladesh, the valley of Feni, Karnafuli, Sangu and Matamuri, is home of about 1.2 million people.  Most of them actually came from across the border and have their co brethren in the Arakan Hills and elsewhere in Myanmar.  The major groups of CHT are: Chakma, Marma, and Tippera. The Chakmas and Marmas follow the orthodox Theravada faith of Myanmar model, while the third group, the Tipperas, adhere to Hinduism. According to dependable  sources,  the number of Marmas  is just  3, 500 today, while in 1981 ( Bhattacharya , 2001:  321)  their number was 1,20,000.  The ever descending trend can be read either as their “failure” to accommodate with a Muslim majority state or it can also be due to peculiar challenges, faced by them. Most probably or as I argue here, it is the second factor.  There are quite a few Bangladeshi  and Indian scholars of eminence who ( Mustafa Majid, 2003: 149-152,   A. Asad, 2014, S. Mukherje, 2000, S. Chakma, 1986)  are equally concerned about the ever increasing settlements – legal or illegal- in the Hills of Chittagong, leading to pressure, if not displacement of the indigenous people. Bimal Parmanik in his extremely valuable work Hindu Decrescent: Bangladesh & West Bengal  ( Pramanik, 2021: 19-21) highlighted the descending or unhappy  trend also of the Buddhist population,  taking examples from districts of Chittagong  Bandarban, Khagrachhari and Rangamati. According to him), the Buddhist population in Bangladesh came down from 49.98% in 1981 to 37, 68% in 2011 ( Parmanik, 2021:  22).  His study with concrete data   skilfully projects upon the concerning downward trend of Hindu population of   all the districts of Bangladesh.    The Marmas  live mostly in the areas like Bandarban, Rangamati and Khagrachari of Chittagong Hill Tracts, and in the plains of Cox’s Bazaar and coastal Patuakhali.   As I have shown in one of my earlier writings ( S. Bhattacharya, 2011, 23 & 2015: 35), the Buddhism followed by the Chakmas is much more open than that followed by relatively more orthodox  Marmas.   The minor groups of CHT are Tongchengya, Mru ( L. G. Loeffler, 1990) , Mrung/ Riang, Bawm, Khumi, Sak, Pangkhua, Khyang and Lushai. Only the Lushai and a few other small groups follow Christianity, while Tongchengya, Mru, Mrung, Bawm, Khumi, Sak follow Buddhism and also worship nature.  In the ethnographical literature written by a large number of colonial administrators, the Chakmas and Marmas are projected as the “Children of the River “ (Khyountha)  category,   while the rest as the children of the Hills or  Toungtha.  The word “ Toung” in Myanmar language means “ mountain”. Such “Plains-Hills Dichotomy” (Bhattacharya, 2001:  326)   in reality is a myth, and often created by the colonial rulers and administrators (Lewin, 2004: 55-57)  in their own interest. The armed resistance that the colonial rulers faced – which they often called “ raids” –  made them extremely cautious in dealing with  such frontier areas ( F.K. Lehman, 1980) as the Lushai Hills ( modern Mizoram), Chittagong Hill Tracts or Arakan Hills.  The Plains dwellers were focused as more “civilized’ against the “Raiders” who were considered as “wild” or wild tribes.  The Magh – a generic name used widely in the colonial literature on Bengal-Burma Frontier actually — points to the Rakhines (Arakanese)  of Myanmar.  The Marmas do not use the term for themselves. Among many explanations for the popularity of the term  may be the “Magadha connection” .  After all, Magadha Empire emerged as the most supreme centre for spread of Buddhism.   Hutchinson states  “The Magh tribe is scattered throughout the District; the majority occupy the country south of the river Karnaphuli, and are under the Chiefship of the Bohmong who has his headquarter at Bandarban on the Sangu river “ ( Hutchinson, 2006: 42). According to Census of 1901, their total strength was 34,706 ( Hutchinson, 2006: 44). Hutchinson narrates further details of history regarding settlement of the 33, 000  …

The Marmas of Bangladesh:  A Historical Profile of their Accommodation Read More »

The Bangladesh way to women centric development

Dr. KasturiBhadra Roy Links between the South Asian neighbours, People’s Republic of Bangladesh and the Republic of India are cultural, civilizational, social, and economic. There is much that unites the two countries – a shared history of the common heritage originating from the Bengal region, linguistic and cultural ties, passion for music, literature and the arts. Both are common members of SAARC, BIMSTEC, IORA (Indian Ocean Rim Association) the Commonwealth.   Bangladesh, however, once called a ‘bottomless basket’ by former US Secretary of State Henry Kissinger, has recently garnered worldwide acclaim for its strides in human development. As reflected in the Gender Gap Report‘s 17th edition (2023), Bangladesh secured 59th position in the overall tally.  All other south Asian countries have ranks beyond 100. India secured rank 127.   As compared to India, more percentage of women is participating in paid work in Bangladesh. Economic participation’, in Bangladesh (0.438) is better than its neighbouring India (0.367). Wage of women is closer to the wage of Bangladeshi men for similar work and in fact, in 2018, Bangladesh’s gender wage gap was lowest in the globe (MTBiz 2018).   In ‘Educational attainment’ and ‘Health and survival’ sub-indices, Bangladesh attained (0.936) and (0.962) respectively and has done more or less the same as its neighbouring countries. These are sub-indices where most countries have done well.   However, in ‘political empowerment’, Bangladesh (0.552) is way ahead of its neighbours in south Asia, ranking 7th globally.   These achievements, however, run contrary to the traditional portrait of Muslim society and women in Bangladesh. If we look back at the post war of Independence era, in 1971, Tully          (2019) writes, the economy had collapsed, and, as a result, there was a famine in 1974. The government said 27,000 people died of starvation; unofficial estimates were as high as 1.8 million. The famine was followed by the assassination of Sheikh MujiburRahman, and almost his entire family, leading to a series of military coups and political instability.   Bangladesh went through difficult times, setting up a new administration, rehabilitating displaced persons, and dealing with the assassination of its founder and top political leadership and several aborted and successful military coups (Husain 2021). The two major political parties, Sheikh Hasina’sAwami League and Khaleda Zia’s Bangladesh Nationalist Party, have alternated in power since 1991. Since 2009, the Awami League has ruled, having won three consecutive elections.   The battle of the begums has remained intense and bitter. Khaleda Zia boycotted the elections and has remained in jail for quite some time along with many of her party stalwarts.   It is interesting in this perspective, to see how the country could make substantial economic and social headway with such fierce political rivalry and perceived instability.   Despite bitter political rivalries, however, there has been continuity in economic policies, projects and programmes in Bangladesh. The parties did not deviate from the basic anchors – macroeconomic stability, fiscal prudence, openness to trade, incentivizing the private sector and commitment to social development. Policy irreversibility has shown that a change of government would have no abrupt dislocation that could adversely affect investor and market sentiment, allowing investors to pursue their plans uninterrupted-resulting in economic gains over time (Husain 2021).   After a series of crises post the country’s 1971 liberation war, the elites in Bangladesh reached a consensus to develop better relationships with international donor agencies to take their support in rebuilding the country. The elites accepted the agencies’ conditions and priorities such as women-focused developmental programmes.   Bangladesh has successfully used its low-cost advantage to become a base for garment manufacturing. (Chakravarty 2013).This has led to the migration of millions of people from rural areas into the manufacturing sector, with women being the biggest beneficiaries.   From the 1990s, there were rising numbers of women in paid work in export factories, number of girls’ enrolment in schools, women receiving health care and other services. Women were employed in increasing numbers by the state, including as teachers, health workers, administrators and the police.   Husain also mentions that laws, policies and programmes to protect women and children against violence and to protect the most vulnerable from hunger and poverty were passed and implemented. Women played a growing role in politics through quotas and reservations (the index 0.552 in Bangladesh compared to 0.253 in India).   On the other hand, the Bangladesh Rural Advancement Committee, GrameenBank and Association for Social Advancement have also played a pivotal role in spreading education and health facilities and providing women access to Self-employment through micro credit schemes.   M NiazAsadullah et al (2013), in their article enumerate that an inclusive development strategy involving various non-government stakeholders, religious bodies and aid donors has helped Bangladesh in promoting women-centric development programmes. A strong commitment from the elites, support from donor agencies and involvement of non-government stakeholders in framing the development strategy helped keep women in the forefront of the development process. This is an interesting journey to learn from.  Bangladesh has depended on aid and had to accept the advice that comes with it. However, it hasnot always been a happy relationship. Bangladeshi NGOs, for instance, have often clashed with international donors. The Bangladeshis have claimed, with some justification, that they know what is best for their country. There have also been accusations that Bangladesh has developed an aid-dependence syndrome, and some donors have given bad advice at times, prompted by their country’s commercial interests rather than the interests of Bangladesh.   But Bangladesh’s dependence on aid has meant that it has been far less easy for politicians to politicize economic decisions or twist them to their own advantage. It is undeniable also that it has given NGOs the freedom to make a contribution to the county’s development. Guided by their experience of working on the ground, they have also been able to influenced policy.   India, on the other hand, has taken a different path to growth. Instead of low-skilled manufacturing jobs, the services sector has become the country’s economic powerhouse due to its pool …

The Bangladesh way to women centric development Read More »

বাংলাদেশ কেন স্থিতিশীল ভূখণ্ড নয় ?

বিমল প্রামাণিক বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স বর্তমানে পাঁচ দশক অতিক্রান্ত। পূর্বে এই ভূখণ্ডটি পাকিস্তানের অধীনে ছিল চব্বিশ বছর  অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। তারও পূর্বে এটি ছিল বৃটিশ শাসনের অধীনে প্রায় দু’শ বছর। বৃটিশ সরকারের শাসনের শুরুতেই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে আসে অবিভক্ত বাংলা, আসাম, বিহার, মেঘালয়, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা। ১৭৬৫ সালের পরে আরও যুক্ত হয় ঝাড়খণ্ড। ১৮৭৭ সালের পর অর্থাৎ উনবিংশ শতকে ইংরেজ রাজত্বে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির আয়তন সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছয়। তখন আফগানিস্তানের নিকটস্থ খাইবার পাস থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত বিস্তার ঘটে। পরে অবিভক্ত বাংলা তথা বেঙ্গল প্রভিন্স বা বঙ্গপ্রদেশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে বিভক্ত হয়ে গঠিত হয় পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গ। যদিও ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হলেও ১৯১১ সালে সেটা বাতিল হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগকালীন  পূর্ববঙ্গের সঙ্গে সিলেটের কয়েকটি অঞ্চলকে যুক্ত করা হয়। অবশিষ্টাংশ আসাম প্রদেশের সঙ্গে থেকে যায়। এরপরএকটি প্রদেশ হিসেবে পাকিস্তানের যুক্ত হয় আর পশ্চিমবঙ্গ ভারতের প্রদেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপরপূর্ববঙ্গ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে এবং বাংলাদেশ নামে একটি দেশ গঠিত হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন শাসন আমলে বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডটির আকার অখণ্ড থাকেনি। সংক্ষেপে এটিই হলবর্তমান বাংলাদেশের পরিচিতি। প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি না করার প্রয়োজনে মুঘল ও দেশীয় রাজাদের ইতিহাস আলোচনায় অন্তর্ভূক্ত করা হল না। বৃটিশ আমল থেকে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি এবং পরে বঙ্গপ্রদেশের বিবর্তনের ইতিহাস, বেঙ্গলি রেনেসাঁ ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গদেশের ভূমিকা ও বাঙ্গালিদের আত্মত্যাগের ইতিহাস, দেশ-বিভাগের ফলে বাঙালি হিন্দুদের ব্যাপকহারে পূর্ববঙ্গ ত্যাগের ইতিহাস, মুসলমানদের আংশিক পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব- পাকিস্তানে গমনের ইতিহাস, ১৯৫০, ১৯৬৪ সালে পূর্ববঙ্গ ও পূর্ব-পাকিস্তানে ভয়াবহ হিন্দু নিধনের ইতিহাস,১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস—ভারতবর্ষের অবদান, গণহত্যার ইতিহাস, পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বাঙালি দালাল ও সহযোগীদের ইতিহাস এসব জানা আজকের প্রজন্মের জন্য জরুরী। যার নামে এবং আহ্বানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা—সপরিবারে সেই শেখ মুজিবুর রহমান সহ প্রবাসী সরকারের প্রধান চার নেতা স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে নৃশংসভাবে নিহত হন। আজকের বাংলাদেশী মুসলমানরা তো এদেরই উত্তরসূরি। এসব ইতিহাস আজকের বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীগণ না পড়লে, না জানলে তারা বাঙালি জাতির শিকড়ে পৌঁছুবে কেমন করে? বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম বাঙালির শৌর্য-বীর্য, গর্ব, বীরত্ব, আত্মত্যাগের ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস না জানলে, তাদের শিকড় বাংলার মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা শিকড়হীন জাতিতে পরিণত হবে। তারা হয়ে যাবে ভাসমান বাঙালি। আজকের বাংলাদেশে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো হয় শুধু ইসলামের ইতিহাস, ভারতের মধ্যযুগের মুঘলদের ইতিহাস, উদ্দেশ্য ছাত্র সমাজকে ইসলামি শাসন, ইসলামি ঐতিহ্য মন-মানসিকতায় গেঁথে দেওয়া। ইংরেজ শাসনে বাংলায় কোন স্বতন্ত্রভাবে স্বাধিকার আন্দোলন গড়ে না উঠলেও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি হিন্দুদের বড় ভূমিকা রয়েছে, যদিও বাঙালি মুসলমান বৃটিশকে সহযোগিতা করাই শ্রেয় মনে করেছিল। তারা বাঙালি ঐতিহ্যের  কোন ধার ধারে নাই। বাঙালির বীরত্বে গর্বিত হয় না। তারা নিজেদের মুসলিম বলতে পছন্দ করে, বাঙালি বলতে হিন্দুদের বোঝায় – যাদের তারা ঘৃণা করতে পছন্দ করে। এই পাকিস্তানি ভাবধারা তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেড়ে বসতে বসতে, নিজেদের বাঙালি পরিচয় থেকে বহু দূরে সরে যাচ্ছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক মুনতাশীর মামুন লিখেছেন, “এরাই নিয়ত বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা,  আওয়ামি লিগকে সব সময় দোষারোপ করে। খালেদা জিয়া, বিএনপি বা জিয়াউর রহমান ও এরশাদকে নয়, এরা ধর্মাশ্রয়ী দলকে সমর্থন করে বলে যে তারা আদর্শবাদী দল, মুক্তিবাহিনীর  বিচার চায় তারা পাকিস্তানি বা পাকিস্তানপন্থীদের ১৯৭১ সালে হত্যা করেছে বলে। এরা শিক্ষায়তনগুলোতে শিক্ষক হিসেবে পাকিস্তানতত্ত্ব সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে  সমর্থন  জোগায়। এখন দেখছি স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ যারা সমর্থন করে তাদের অনেকেও এই পাকিস্তান প্রত্যয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।  আজ ৭৫ বছর কেন এই তত্ত্ব বাঙালিদের প্রভাবিত করছে তার উত্তর খুঁজছি।”১ ধর্মীয় রাষ্ট্র কাঠামোয় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রকৃত অর্থেই কোন বিশেষ মূল্য পায় না। দেশবিভাগ পরবর্তীপাকিস্তানেরচব্বিশবছরেরশাসনেপূর্ববঙ্গেরঅধিবাসীবৃন্দমর্মেমর্মেএটাউপলব্ধিকরেছিল।পূর্ববঙ্গতথাবাংলাদেশেরাষ্ট্রীয়ওসামাজিকঅঙ্গনেজাতিপরিচয়ছাপিয়েধর্মীয়পরিচয়বাঙালিমুসলমানসমাজকেএমনভাবেআষ্টেপৃষ্টেবেঁধেফেলেছেযেতারাআরতাথেকেবেরিয়েআসতেপারছেনা।এবিষয়েবিশিষ্টবুদ্ধিজীবীঅধ্যাপকআহমদশরীফেরমতামতনিম্নরূপঃ “আমাদেরজাতিপরিচয়সমস্যারমতোএমনঅদ্ভূতদুঃসাধ্যসমস্যাপৃথিবীরকোনদেশেরবাভাষারমানুষেরআছেকিনাজানিনা।যেচেতনাথেকেমানুষপ্রাণরসআহরণকরে, সত্তারস্বরূপঅনুভব-উপলব্ধিকরে, সেচেতনাটিইআমাদেরএখনওঅস্পষ্টওঅপূর্ণ।এখনওঅনির্ণীতছায়া, নিরবয়বঅনুভূতিমাত্র।ব্যক্তিমানুষেরওআশৈশবসুনির্দিষ্টতিনটিপরিচিতিথাকে—এগুলোতিনটিপ্রশ্নেরআবশ্যকওজরুরীউত্তর।কিনাম, কোথায়নিবাস, এবংকিবৃত্তি–এতিনটিরউত্তরইব্যক্তিমানুষেরপরিচিতিরআবশ্যিকভিত্তিএবংআত্মপরিচয়েরএতিনটিভিত্তিসবারইদৃঢ়।ব্যতিক্রমবিপর্যয়জাতমাত্র। দৈশিক-ভাষিক-জাতিক-রাষ্ট্রিক জীবনেও তেমনি একটি অভিন্ন সত্তা চেতনায় ঐক্য ও একাত্ম অনুভব না করলে একটা দৈশিক-ভাষিক-রাষ্ট্রিক ও সাংস্কৃতিক জাতি চেতনা দানা বাঁধতে পারে না।  এ অভিন্ন সত্তা-চেতনা বা জাতি-চেতনা থেকেই অভিন্ন উদ্দেশ্যে এবং সিদ্ধ-সাফল্যের লক্ষ্যে রাষ্ট্রিক জীবনে ভাব-চিন্তা-কর্ম-আচরণ নিরূপিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, একটা জাতি গড়ে ওঠে। আমাদের বেলায় তা আজও হয়ে ওঠেনি।২ মুসলমান সমাজে বাঙালি জাতিসত্তাবোধ গভীরে প্রবেশ না করায় বাঙালি জাতি রাষ্ট্র গঠনে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ১৯৭২ সালেই সামনে এসেছিল, ১৯৭৫ সালে এর পট পরিবর্তন তা চিরতরে অবসান ঘটিয়েছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। আবুল মনসুর আহমদ  বাহাত্তরেই লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশ আসলে পাকিস্তানেরই সত্যতর রূপায়ণ’!’ অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাতিসত্তা বা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রধান অন্তরায় ‘ইসলাম’। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভূত – যা পাকিস্তানের জন্ম ও ভারত-বিভক্তির প্রধান ভূমিকায় দেখা গেল, আজ দেশ বিভাগোত্তর পঁচাত্তরবছরপেরিয়েএসেসেইভূতবাঙালিমুসলমানদেরকাঁধেআবারওচেপেবসেছে।কোরাণ, সুন্নতওশরিয়ারবাঁধনশিথিলনাহলেবাঙালিজাতিসত্তারবিকাশকখনওসম্ভবনয়।‘ইসলাম’এবং ‘জাতিসত্তা’ পরস্পর সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশের আধুনিক গণতন্ত্রকামী গবেষকগণ হিন্দু-মুসলমান  সম্পর্ক বিষয়ক যে মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং বাঙালি মুসলমান সমাজ বাঙালি হিন্দুদের প্রতি যে ধরণের আচরণে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে তার নমুনা নীচে উদ্ধৃত করা হলঃ “The attitude of Muslims towards the minorities is fully influenced by the tenets of Islam.  The tenets and practices of other religious are compared with that of Islam, and in the process, it is established how Islam as a religion is superior to other religions.  The superiority is rationalized on the assessment that the Quran is infallible. Secondly, experience of Muslims in their encounter with the minority communities in the past is transmitted through socialization”…৩  উল্লেখিত বিশিষ্ট পণ্ডিত জনের মতামত প্রণিধানযোগ্য। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ‘পাকিস্তানি প্রত্যয়’ এখনও সজীব কেন তার প্রধানতম কারণ বাঙালি জাতিসত্তারধারণা বাংলাদেশের মুসলমান সমাজে শিকড় বিস্তার করতে পারেনি। নামে ‘বাংলাদেশ’ হলেও দ্বিজাতিতত্ত্বের  শিকড় রয়েছে সমাজের গভীরে। জাতিসত্তা বা জাতীয়তাবাদের শিকড় গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ না পেলে কোনো জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র আজকের দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন কোন নজির নাই।  একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, যখন কোন জনগোষ্ঠী স্বজাতি- স্বধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত  হতে বাধ্য হয় বা স্বেচ্ছায় অন্য ধর্ম গ্রহণ করে, তখন নব্য ধর্মান্তরিত জনগোষ্ঠীর নতুন ধর্মের গুণগান করে মহিমান্বিত করার সবরকম চেষ্টা করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়ে যায়। নতুন ধর্মে তার বিশ্বাস-যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পূর্বেই তাকে পুরাতন ধর্মের অসারতা প্রমাণ করা আবশ্যিক হয়ে পড়ে। এই কর্মে প্রয়োজনে তার পুরানো ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈরী আচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করে না বা ন্যায্যতা অন্যায্যতা তার বিবেচনায় আসে না। এখানে কোন জাতিসত্তা-বোধ কাজ করে না। গত দুইশত বছরের বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস ঘাঁটলে এমন অনেক নজির দেখতে পাওয়া যাবে। সে কারণেই অধ্যাপক  আদমদ শরীফ বাঙালি মুসলমানের জাতিসত্তা-বোধ সম্পর্কে বলেছেন, “আমাদের জাতিপরিচয় সমস্যার মতো এমন অদ্ভূত দুঃসাধ্য সমস্যা পৃথিবীর কোন দেশের বা ভাষার মানুষের আছে কিনা জানি না। যে চেতনা থেকে মানুষ প্রাণরস আহরণ করে, সত্তার স্বরূপ অনুভব-উপলব্ধি  করে, সে চেতনাটিই আমাদের এখনও অস্পষ্ট ও অপূর্ণ।” … ইসলামি দেশ বা অত্যধিক-সংখ্যক মুসলিম-গরিষ্ঠ দেশে ইসলামি আইন-কানুন থাকা অস্বাভাবিক নয়। সেখানে বসবাসকারী অমুসলমানদের অবস্থা পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের অবস্থা থেকে বোঝা যেতে পারে। …

বাংলাদেশ কেন স্থিতিশীল ভূখণ্ড নয় ? Read More »

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা ভার্সাই চুক্তির মত ২০২৪-র নির্বাচন কি আর একটি নির্বাচনের পদধ্বনি মাত্র?

।।শিতাংশু গুহ, ২৯শে ডিসেম্বর ২০২৩, নিউইয়র্ক।। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হবার পর ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনটি ভালোই ছিল। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যা, সামরিক শাসন পেরিয়ে ১৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচন। জাতি প্রথম দেখলো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’। আরো দেখলো নির্বাচনের আগে-পরে সংখ্যালঘু নির্যাতন। এ নির্বাচনে ভোটের গুরুত্ব ছিলনা, কারণ ফলাফল আগেভাগে ঠিক ছিল। প্রহসনের নির্বাচনের সেই শুরু। থেমে থেমে আজও তা চলছে, কেউ জানেনা এর শেষ কোথায়?  ১৯৮৬ ও ১৯৮৮-এর নির্বাচনের আগে-পরে হিন্দুর ওপর অত্যাচার হয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, সংখ্যালঘু নির্যাতন বাদ যায়না। ২০০১-র নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি-জামাত বিজয় উৎসব পালন করে ব্যাপক হিন্দু নির্যাতনের মধ্য দিয়ে। এ যাবৎ নির্বাচনী সন্ত্রাসের মধ্যে ২০০১ এখনো শীর্ষে? ১৯৮১ সালে দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বিচারপতি সাত্তার বিজয়ী হন। জিয়া হত্যার পর এই নির্বাচন ছিল আর একটি প্রহসন, লোক দেখানো এবং সময় ক্ষেপণ। নির্বাচনটি হয় ১৫ নভেম্বর ১৯৮১, এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন ২৪শে মার্চ ১৯৮২।  এ প্রসঙ্গে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একটি চমৎকার উক্তি আছে। বায়তুল মোকাররমে এক ভাষণে তিনি বলেন, দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন ডঃ কামাল হোসেন ও বিচারপতি আব্দুস সাত্তার; জনগণ ভোট দিলো ড: কামাল-কে, জিতলেন সাত্তার সাহেব এবং ক্ষমতায় বসলেন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ’। সুরঞ্জিতদার এই বক্তব্য থেকে তখনকার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়! এটি আমি নিজকানে শুনেছি।  দেশে আরো দু’বার জনগণের ভোটে (!) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, সেটা ১৯৭৮ ও ১৯৮৬। এতে জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল না, বরং তা ছিল অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার প্রক্রিয়া? একই লক্ষ্যে বাংলাদশে ১৯৭৭ ও ১৯৮৫-তে দুটি রেফারেন্ডাম হয়েছিল, যা ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নামে সমধিক পরিচিত। তবে ১৯৯১ সালের রেফারেন্ডামটি ছিল ভিন্ন আঙ্গিকে। ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়, বিএনপি নেয়না। প্রচার আছে যে, আওয়ামী লীগ তখন সরকারের সাথে আপোষ করেছিল। আসলে তা নয়, বিএনপি চালাকি করে আওয়ামী লীগকে বোকা বানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে পড়ে।  ঘটনাটি ছিল এরকম: নির্বাচনে যাওয়া-না-যাওয়া প্রশ্নে তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় জোটের মধ্যে অনেকগুলো মিটিং হয়। চূড়ান্ত সভায় গভীর রাতে যৌথ সিদ্ধান্ত হয় যে, উভয় জোট নির্বাচনে অংশ নেবে এবং পরদিন তারা পৃথক পৃথকভাবে তা সাংবাদিকদের জানাবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক আওয়ামীলীগ পরদিন সকালে জানিয়ে দেয় যে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি বিশ্বাসভঙ্গ করে। তারা প্রচার করে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে হাত মিলিয়েছে। ঐ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করে, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে বসে। শেখ হাসিনা বিরোধী নেত্রী হিসাবে এই প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পান। ধারণা করি, ঐসময় তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন যে, দলকে ক্ষমতায় আনতে হবে। সেই সুযোগ এসেছিল ১৯৯১ সালে। অতিরিক্ত কনফিডেন্সের কারণে তখন আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। শেখ হাসিনা বিরোধী নেত্রী হন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। এরশাদ জেলে যান। শেখ হাসিনা তখন সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। যদিও তখন সেটি কেউ আমলে নেয়নি, প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগকে তখন জোর করে (প্রশাসনিক ক্যু!) হারানো হয়েছিল।  ১৯৮৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরশাদ একাই প্রার্থী ছিলেন, সাথে ক’জন নাম না জানা প্রার্থী। ১৯৯১ থেকে নির্বাচনের কথা মোটামুটিভাবে সবার মনে আছে। সেদিকে যাবার আগে ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচনের কথা কিছুটা বলা দরকার। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট বা বিএনপি জোট অংশ নেয়নি। জাতীয় পার্টি খালি মাঠে বিজয়ী হয়। আসম রব তখন ‘গৃহপালিত’ বিরোধী নেতা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন, মতিঝিলে জুতাপেটা হন। অবাক কান্ড যে, রওশন এরশাদ এবং আসম রব প্রায় একই ভূমিকা পালন করলেও রওশন এরশাদ ‘গৃহপালিত’ উপাধি পাননি!   ১৯৭৫-এর পর থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মূলত: অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং যেনতেন প্রকারেণ ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনীতি চালু ছিল। নির্বাচনের লক্ষ্যও ছিল তাই? ঐসময় জেনারেলদের ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়োজনে ধর্মভিত্তিক দল বিএনপি-জাপার জন্ম হয়, ক্যান্টনমেন্টে। ১৯৮৮ সালে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলে হিন্দু ও সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হয়? আবার ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলে হিন্দুদের মনে কিছুটা আশার সঞ্চারহয়। যদিও ১৯৯৬-র নির্বাচনের পর হিন্দুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন করে বিএনপি-জামাত গোষ্ঠী।  ২০০১-র নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট জয়ী হয় এবং তারা বিজয় উৎসব পালন করে সংখ্যালঘু বিশেষত: হিন্দুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়ে। ২০০১-২০০৬ এসময়ে বিএনপি-জামাত শাসনামলে দেশে জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ বাড়লে স্বাভাবিকভাবে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বাড়ে, বাংলাদেশে হচ্ছেটাও তাই। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ২০০১-এর সংখ্যালঘু নির্যাতনের তদন্ত করতে একটি কমিশন গঠন করে। বিচার হয়নি। বাংলাদেশে হাজার হাজার মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গলেও আজ পর্যন্ত একজন এই অপরাধে শাস্তি পায়নি? এটাই সত্য।   বাংলাদেশে ২০০৮-এর ডিসেম্বরের নির্বাচনটি সম্ভবত: সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সংখ্যালঘু নির্যাতন কম হয়েছে। আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসে। তারপর ২০১৪-র ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন। ১৫৩জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। যাকিছু ভোট পড়েছে, দিয়েছে হিন্দুরা। পত্রিকায় শাঁখা-সিঁদুরের ছবি এসেছে, হিন্দু আবার নির্যাতিত হয়েছে। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, বিচার হয়নি। ২০০৯ থেকে দেশে নুতন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উন্নয়নের জোয়ার বইছে, সমানতালে চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন, দেশত্যাগ। ২০০৯ থেকে ২০১৭, এবং এখন পর্যন্ত (২০২৩) সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্যে দায়ী সরকার, বিচার নাই, ফলে নির্যাতন চলছে তো চলছেই।   নির্বাচন এলে নির্যাতনের মাত্রাটা বেড়ে যায়। আগেই বলেছি, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুরা কম-বেশি নির্যাতিত হয়েছে। এই ধারা এখনো চলছে। সামনের নির্বাচনের আগে-পরে হবেনা এর গ্যারান্টি কোথায়? ৭ই জানুয়ারী ২০২৪-র নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে একটি দল বা জোট, তারা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। যাঁরা নির্বাচন করছেন, তাঁরা ভোট দিতে উৎসাহ জোগাচ্ছেন। এমনিতে হিন্দুরা সচেতন, ভোট দেন, এবার ভোট দিতে গেলে কি রোষানলে পড়ার সম্ভবনা থাকবে না? এবার আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু মনোনয়ন কম দিয়েছে, এবং কারো কারো মতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে এঁরা অনেকেই জয়ী হতে পারবেন না?  ১৫ই ফেব্রূয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনের কথা বলা হয়নি। ওটাও ছিলো প্রহসনের নির্বাচন। খালেদা জিয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার অপপ্রয়াস। যদিও তার সেই আশা পূর্ণ হয়নি। ১২ই জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হন। ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি শুধু নামেই নির্বাচন, অভিযোগ রয়েছে, ‘দিনের ভোট রাতে’ হয়ে যায়। ব্যাপক কারচুপি হয়, মূলত: এটি ছিল ‘বিনে’ ভোটের নির্বাচন।  এপর্যন্ত ১১টি সংসদীয় নির্বাচন, ৩টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ৩টি রেফারেন্ডাম হয়েছে। তাতেও কিন্তু গণতন্ত্র এখনও ‘সোনার হরিণ’ রয়ে গেছে। নির্বাচন মানেই ঝামেলা, ভয়, শঙ্কা। শঙ্কাটা সংখ্যালঘুর মধ্যে বেশি। এতগুলো নির্বাচনের মধ্যে কয়টি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে  তা বলা মুশকিল? জনগণ ২০০৮-এ একটি সুন্দর নির্বাচন দেখেছে, ২০১৪ এবং ২০১৮-তে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এ সময়টায় যারা নুতন ভোটার হয়েছেন তারা কি এবার ভোট দিতে পারবেন?হয়তো পারবেন, কিন্তু পছন্দমত প্রার্থীকে কি ভোট দিতে পারবেন?ভোট তো দিতে হবে, হয় নৌকা বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে? এবারের নির্বাচনটি হচ্ছে, নৌকা ভার্সেস আওয়ামী লীগ (স্বতন্ত্র)।  নির্বাচনের আর মাত্র ক’দিন বাকি, তবু হয়তো নির্বাচন নিয়ে শেষ কথা বলার সময় শেষ হয়ে যায়নি। স্কুলে পড়েছিলাম, …

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা ভার্সাই চুক্তির মত ২০২৪-র নির্বাচন কি আর একটি নির্বাচনের পদধ্বনি মাত্র? Read More »

ভারত হারলেই আনন্দ!

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক (২২ শে নভেম্বর ২০২৩) এ আনন্দ-উৎসব হিন্দু বিদ্বেষ থেকে উৎসারিত। ভারত-বিদ্বেষ যা মূলত হিন্দু বিদ্বেষ, এ উপমহাদেশে মজ্জাগত, আপাতত: এ থেকে বেরিয়ে আসার কোন সুযোগ নেই? এজন্যে পাকিস্তান হিন্দু-শূন্য, বাংলাদেশ হিন্দু-শূন্য হবার পথে। অষ্ট্রেলিয়া যোগ্য দল হিসাবে ভাল খেলে জিতেছে, তাঁদের অভিনন্দন। ভারত শক্তিশালী দল, অপরাজিত ছিল, হেরেছে ফাইনালে। খেলা হচ্ছে, ‘হারি-জিতি’ নাহি লাজ, ভারতবাসী দু:খ পেয়েছে, কিন্তু অষ্ট্রেলিয়াকে অভিনন্দন জানাতে ভুল করেনি। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে ভারতের পরাজয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। না, এটি কোন গোপন বিষয় নয়, বাংলাদেশের দর্শক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত হারায় তাঁরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।    ‘দি নিউজ-বাংলা’ হেডিং করেছে, ‘ভারতের হার, বাংলাদেশে উৎসব’। একজন জাহাঙ্গীর আলম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “মানুষ এত ‘বে-ইমান’ হয় কি করে, শুধুই ধর্মের জন্যে—ছিঃ বাংলাদেশ ছিঃ”? তাঁর পোস্টে একজন ভারতীয় শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য লিখেছেন, ‘যে কেউ অস্ট্রেলিয়াকে সাপোর্ট করতেই পারে, কিন্তু কারণ জানতে চাইলে বলা হলো, ভারত মুসলিম রাষ্ট্র নয়! অস্ট্রেলিয়াও তো মুসলিম রাষ্ট্র নয়, তাহলে? ভারত হিন্দু। বিষয়টি ভারত নয়, বিষয়টি হিন্দু, এক্ষেত্রে ভারত-হিন্দু সমার্থক। ভদ্রলোক লিখেছেন, বিষয়টি পরিষ্কার, এন্টি-হিন্দু। ভারতের টীমে মোহাম্মদ সামি, সিরাজ আছে, তাঁরা চমৎকার খেলেছেন, তাহলেও হবে না, হিন্দুর সাথে থাকলে চলবে না?     তামান্না তাবাস্সুম মিথিলা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইন্ডিয়া সব ম্যাচে জিতেছে, একটিতে হারলে সমস্যা নেই! তাঁর পোস্টে একজন শাহরিয়ার নাসিফ একটি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ভারত ১০টি জিতেছে, ১টি হেরেছে অর্থাৎ ‘চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন’।  ‘আরকি’ নামের একটি পোর্টাল ছবির আকারে একটি বক্তব্য দিয়েছে, তাতে লেখা, ‘ইন্ডিয়া হেরে যাওয়ার খুশিতে চিৎকার করতে গিয়ে বড়ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ভারত নিয়ে আসা হচ্ছে’। মো: শাহরুখ ইসলাম  এবং আরো অনেকে টিটকারী করে বলেছেন, ‘হে প্রভু, হরি, কৃষ্ণ, জগন্নাথ, প্রেমানন্দ, ‘এ কেয়া হুয়া’। হিন্দুরা বলেছেন, এরপরও তো ওঁরা কৃষ্ণ নাম নিচ্ছে! একজন আরিফুজ্জাম লিখেছেন, ‘ধর্মের ঢোল আপনি বাজে’।   ভারত-পাকিস্তান খেলায় অধিকাংশ বাংলাদেশী পাকিস্তানকে সমর্থন করে, এর হয়তো একটি কারণ থাকতে পারে, কিন্তু ভারত-অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে ভারতের পরাজয়ে এ উল্লাস অনেকাংশে ‘বিজাতীয়’। হিন্দু বিদ্বেষ, ভারত বিদ্বেষ ব্যতীত আর কি কারণ থাকতে পারে? নিউইয়র্কে একটি টক-শো তে দু’জন জানালেন, হয়তো এর কারণ ভারতের দাদাগিরি, ভারত বাংলাদেশ থেকে সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে, অথবা বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিমাতা-সুলভ আচরণ? যদিও একজন সম্পাদক শেষের বক্তব্যটি প্রমাণসহ নাকচ করে দিয়েছেন! কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের মিডিয়ায় এনিয়ে কোন আলোচনা নেই, কেউ কোন কলাম লেখেনি, কারণ মনে মনে সবাই খুশি!    কেউ যদি বলেন, ভারত হারায় এ উচ্ছ্বাস সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বৈ কিছু নয়, তাহলে এঁরা আপনাকে সাম্প্রদায়িক বানিয়ে দেবে এবং ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ হাঁকিয়ে বলবে, ‘খেলার মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা টেনে আনবেন না’! সন্ত্রাসের কথা উঠলেও এঁরা  বলেন, ধর্মের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই? জিজ্ঞাসা করুন, খেলার মাঠে নামাজ পড়েছিল কারা? বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এটি করে ধর্মের কি লাভ হয়েছে জানিনা, তবে খেলায় জয় আসেনি। এর নিট ফলাফল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কে দেয়া- যার পরিণতি ভারত বিদ্বেষ, যার উলঙ্গ প্রকাশ ভারতের পরাজয়ের পর সাম্প্রদায়িক উল্লাস। এর বিরূপ প্রভাব পূর্ব-ভারতে পড়েছে, হয়তো আরো পড়বে। প্রাক্তন গভর্নর ড: তথাগত রায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ অকৃতজ্ঞ, ফের এর প্রমাণ  দিল’।     একজন চমৎকার একটি হাইপোথিটিক্যাল প্রশ্ন করেছেন, তিনি জানতে চেয়েছেন, ফাইনাল খেলাটি যদি ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে হতো, এবং ইসরাইল জিততো, তাহলে বাংলাদেশীরা কি করতেন? আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরা খেলাটি ‘বয়কট’ করতাম। এক ভারতের জ্বালায় বাঁচিনা, এর ওপর ইসরাইল! (২) হিন্দুর মাথায় হাত বোলানো! ৩রা নভেম্বর ২০২৩ সরকার এবং দল হিসাবে আওয়ামী লীগ এসময়ে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের মাথায় হাত বোলাতে শুরু করেছেন। তারা ইতিমধ্যে দেশে বেশ ক’বার হিন্দু নেতা, এবং প্রবাসে ঐক্য পরিষদের সাথে বৈঠক করেছেন। যদিও ফলাফল ‘শূন্য’। গত দেড় দশক সরকার ও আওয়ামী লীগ হিন্দুর কথা বেমালুম ভুলে থেকেছেন। এখন ভোট আসছে, এবার হয়তো ভোটের দরকার হবে, তাই মাথায় হাত বোলানো। এতে কি কাজ হবে? এবার কি শুধু কথায় চিড়ে ভিজবে, না ২০১৮’র অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে?  হিন্দুরা কি তাহলে এবার আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না? পাল্টা প্রশ্ন করা যায়, কেন দেবে? হিন্দুরা তাহলে কাকে ভোট দেবে? ভোটের চিত্রটি ভিন্ন, আগে হিন্দুরা ১শ’ শতাংশ নৌকাকে ভোট দিয়েছে, সত্তরে হিন্দুরা ১শ’ শতাংশ ভোট নৌকায় দিয়েছিল বলেই বঙ্গবন্ধু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, দেশ স্বাধীন হয়েছিল। পঁচাত্তরের পর আওয়ামী লীগের উত্থানে হিন্দুদের অবদান, এমনকি ২০০৮-এ ক্ষমতায় আনতে হিন্দুরা জীবনপণ করেছিল। বিনিময়ে হিন্দুদের ‘কলা’ দেখানো হয়েছে।  ১৩ই অক্টোবর ২০২৩ দৈনিক প্রথম আলো হেডিং করেছে, ‘সংখ্যালঘু নেতাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টায় আওয়ামী লীগ, লক্ষ্য ভোট’। ক’দিন আগে ঐক্য পরিষদের অনশন ভাঙ্গাতে আওয়ামী লীগ ‘সংখ্যালঘু কমিশন’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, আপাতত: সরকার এনিয়ে চুপচাপ। ওয়াশিংটনে হিন্দু নেতারা  আবারো ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ দাবি করেন। মনে হয়, অন্তত: এ দু’টো দাবি পূরণ না হলে এবার আওয়ামী লীগ হিন্দুদের তেমনটা পাশে পাবে না।   তাহলে হিন্দুরা কোনদিকে যাবে? হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক দলের দিকে যাবে না, আওয়ামী লীগ এখন আর অ-সাম্প্রদায়িক দল নয়, তবু মাঝে মধ্যে কেউ কেউ মুখে অসাম্প্রদায়িকতার কথা ভুলে বলে ফেলেন, বেকুব হিন্দু তাতেই খুশি? হিন্দুরা এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এবার নির্বাচনে অসংখ্য হিন্দু প্রার্থী থাকবে। আওয়ামী লীগের ২১জন সংখ্যালঘু এমপি হিন্দুদের নিরাশ করেছেন। এজন্যে ক’দিন আগে রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ২১ জন সাংসদ কিছুই করলেন না!  সিইসি বলেছেন, সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিক দলের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। কথাটি সত্য। জাতীয় পার্টির জিএম কাদের বলেছেন, সরকার জড়িত বলেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার হয় না। হিন্দুরা মূলত: শান্তি চায়, সরকার তা দিতে ব্যর্থ। ‘ইসলাম ধর্ম অবমাননা’ এবং হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, জেল-জুলুম ঘটনায় হিন্দুরা তিতি- বিরক্ত। ডিএসএ বা অধুনা সিএসএ (সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট) হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাসফেমি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইকবালের কারণে ১৮টি জেলায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়, তাঁর হয়েছে ১৪ মাসের জেল এবং রাকেশ রায়, যিনি ভিকটিম, তার হয়েছে ১১বছরের জেল? এথেকে দেশের বিচার ব্যবস্থার দৈন্যতা এবং হিন্দুর প্রতি ভালবাসা টের পাওয়া যায়!  বর্তমানে হিন্দুদের ‘ভিক্ষা চাইনা, কুত্তা সামলান’ অবস্থা। আওয়ামী লীগের ভালবাসা হিন্দুদের আর দরকার নেই! পূর্ব-পাকিস্তান আমলে হিন্দুরা প্রতিকূল অবস্থায় বাস করতো, কারণ সরকার, রাজনৈতিক দল সবাই ছিল অ্যান্টি হিন্দু। ভরসা ছিলো বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, বাম দলগুলো এবং কিছু ভালো মানুষ। এখন বঙ্গবন্ধুও নেই, নেই সেই আওয়ামী লীগ বা বামেরা, প্রশাসন, রাষ্ট্রযন্ত্র, হুজুর ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা সবাই অ্যান্টি সংখ্যালঘু, ভালো মানুষ  কোথায়? হিন্দুদের অবস্থা এখন পাকিস্তান আমলের চেয়েও খারাপ। এই অবস্থায় ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানো ছাড়া সংখ্যালঘু’র সামনে অন্য কোন পথ খোলা নেই?       ভারত কখনও হিন্দুদের জন্যে কিছু করেনি। আওয়ামী লীগ হিন্দুদের জন্যে কিছু করেনি। এই দুই শক্তির ওপর ভরসা করে হিন্দুরা বারবার ঠকেছে, হয়তো ঠকে ঠকে শিখেছে, ‘বলং বলং বাহু বলং’। বাংলাদেশের দুই কোটি হিন্দুকে বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’! বাংলাদেশে গণতন্ত্র, প্রগতিশীলতা বজায় রাখতে, বা উগ্রতা ও ইসলামী মৌলবাদ ঠেকাতে সংখ্যালঘুরা ‘ডিটারেন্ট …

ভারত হারলেই আনন্দ! Read More »

মুক্তিযুদ্ধের গান

পূর্ণিমা নস্কর স্বাধীনতা কোন দেশের প্রাণ হলে সংস্কৃতি হয় তার সৌন্দর্য।  দেশের এই সংস্কৃতিকে বুকে আগলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই সে দেশের আবেগপ্রবণ মুক্তিযুদ্ধকে করেছিল উজ্জ্বল। আর এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিরাট একটা অংশ ছিল তরুণ প্রজন্ম।  এই তরুণদের টগবগ করা রক্ত, দূর্দমনীয় সাহস  স্বাধীনতা-সংগ্রামকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছিল এবং সেইসব তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে রচিত হয়েছিল অসংখ্য গান।  সেইসব প্রাণশক্তিরূপিণী গানের ডালিকে স্মরণ করে বীর শহীদের প্রতি রইল  আমার অন্তরের গভীর বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ।   এই সমস্ত গানের সম্প্রচারের জন্য স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র বিশেষ ভুমিকা পালন করেছিল। সেই সমস্ত গান তৎকালীন উভয় বাংলার আপামর জনসাধারণকে উদ্বেলিত করেছিল – যার রেশ আজও ম্রিয়মাণ হয়নি। সেইসব গানের কিয়দংশ নিবেদন করার মধ্য দিয়ে সেই সূদুর সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে যে উন্মাদনার সৃষ্টি  হয়েছিল স্বাধীন বাংলায় ও পশ্চিমবঙ্গে তার একটা প্রতিচ্ছবি বা অনুরণন ফিরে পাওয়ার প্রয়াস এই  প্রবন্ধে রয়েছে।   যে সব গান বেতার কেন্দ্রগুলি সম্প্রচার করেছিলঃ  “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি।                                                 মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।”  (১)   এই গানে পূর্ব পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের প্রাণ সজীব, উজ্জ্বল ওঠে। প্রতিরোধ সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় রচনার একটি অমোঘ অস্ত্রস্বরূপ ছিল গানটি। এর রচয়িতা হলেন গোবিন্দ হালদার, সুরকার ও  শিল্পী ছিলেন আপেল মাহমুদ। শ্রোতাদের বিচারে গানটি সেরা গানগুলির মধ্যে পঞ্চম স্থানে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল।   চিরকালীন শোষণ আর নিপীড়ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ইতি বাঙালি বিজয় দিয়ে দেখতে চেয়েছিল, যাতে এসে সামিল হয়েছিল অসংখ্য মানুষের দেশপ্রেমের অনুভব আর প্রাণপণ লড়ে যাওয়ার গৌরব বাসনা। সে সময় নাঈম গহর লিখেছিলেন—         “নোঙ্গর তোলো তোলো         সময় যে হলো হলো         নোঙ্গর তোলো তোলো।“ (২)   পরবর্তীতে সমর দাস  এ গানটিতে সুরারোপিত করলে বাঙালি স্বাধীনতার লড়াইয়ে নতুন করে মনে বল অনুভব করে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত  বাঙালির মনে দেশপ্রেমকে জাগরিত করতে অনবদ্য ভূমিকা রাখে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য গান হল—         তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে।         আমরা কজন নবীন মাঝি হাল ধরেছি শক্ত করে। (৩)   গানটির  গীতিকার ও সুরকার আপেল মাহমুদ। কন্ঠশিল্পীরা হলেন আপেল মাহমুদ, রথীন্দ্রনাথ রায় ও সহশিল্পীরা। গানটির মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের লড়াইয়ের অগ্রসরতাকে প্রকাশ করা হয়েছে এবং গানটি ছিল মুক্তি সংগ্রামের তীব্র চেতনার এক বজ্রকঠিন শপথ।   অপর একটি গান, যার কথা, সুর এবং গায়কি লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে তুলেছিল। গানটি এইরূপ –         “পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে,         রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল,         জোয়ার এসেছে জন সমুদ্রে         রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল,         বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল।” (৪) সমবেত কণ্ঠ-শিল্পীদের দ্বারা গাওয়া গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার এবং সুরকার ছিলেন সমর দাস। এ গানটি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে অদম্য সাহস সঞ্চার করে স্বাধীনতা সংগ্রামকে একটা ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত করেছিল।   সমাজের সর্বস্তরের জনতার  অংশগ্রহণ যে স্বাধীনতা সংগ্রামকে শাসককুল আর দাবিয়ে রাখতে পারবে না বুঝেই সিকান্দার আবু জাফর লিখেছিলেন –         “জনতার সংগ্রাম চলবেই         আমাদের সংগ্রাম চলবেই         জনতার সংগ্রাম চলবেই।“ (৫)   শেখ লুৎফর রহমানের সুরে শিল্পীরা যখন সমবেতভাবে এই গান গাইলেন তখন তা এক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।   বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত শুধু সবদিক থেকে সাহায্যই করেনি; মুক্তিযুদ্ধের গানেতেও তার অবদানের সাক্ষর রেখেছে বহুক্ষেত্রে। ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত প্রতিভাবান শিল্পীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাত ও ধর্মের বিচার না করেই গান রচনা করেন ও পরিবেশন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। দৃষ্টান্তস্বরূপ গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের কথায় ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গানটি – “মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তপ্রিয় শান্তছেলে প্রতিবাদ করতে জানি  শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা”।  (৬)   এখানে বাংলাদেশকে মায়ের স্থান দেওয়া হয়েছে। কত শত তরুণ গানটি শুনতে শুনতে গৃহত্যাগী হয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল এবং ইতিহাসে আজ সেসব তথ্য  কিছু হলেও লিপিবদ্ধ হয়েছে।   বিখ্যাত সুরকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা আরও একটি গান –         “শোন একটি মুজিবুরের থেকে         লক্ষ মুজিবুরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি- প্রতিধ্বনি         আকাশে বাতাসে ওঠে রণি,         বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।” (৭)   গানটির সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী  ছিলেন অংশুমান রায়।  এই গানটি ছিল এমন একটি গান, যেটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হওয়ার অনেক আগেই ভারতের কোন এক বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হয়েছিল।   বাংলাদেশি সঙ্গীতজ্ঞরাও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনেক অবদান রেখেছেন। গাজী মাঝহারুল আনোয়ারের লেখা ও আনোয়ার পারভেজের সুরারোপিত এবং কণ্ঠশিল্পী মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের সেই বিখ্যাত গান –           “জয় বাংলা বাংলার জয়।         হবে হবে হবে হবে নিশ্চয়।         কোটি প্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধ রাতে         নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময় জয় বাংলা বাংলার জয়।” (৮) গানটির জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে পরে এই গানটি ‘জয় বাংলা’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়।  গানটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাসহ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল। এ প্রসঙ্গে ডিএল রায়ের একটি বিখ্যাত গান—মাতৃভূমি নিয়ে গর্বিত হওয়ার গান।   “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।” (৯)    এই গানটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রত্যাবর্তনের দিক নির্দেশ করে।   আব্দুল লতিফের লেখা ও গাওয়া অপর একটি উল্লেখযোগ্য গান হল –           “ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়          ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়         ওরা কথায় কথায়  শিকল পরায় আমার হাতে পায়ে           ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে পায়ে।” (১০)   এখানে তৎকালীন পাকিস্তানে (অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার সমান মর্যাদা) পূর্ববঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির যে প্রকৃষ্ট চর্চার কেন্দ্র ছিল সেখানে লোকজ সঙ্গীত একটা বড় স্থান জুড়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণার প্রেক্ষিতে বিচলিত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার তাগিদ অনুভব করে।   মুক্তিযুদ্ধের ৭৮টি গানের মধ্যে রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে বহুল প্রচারিত উল্লেখ্য গানটি ছিল—           “আমার এদেশ সব মানুষের” (১১)   আব্দুল জব্বারের গাওয়া জনপ্রিয় গানটি হল—         সাত কোটি মানুষের আর একটি নাম         মুজিবর, মুজিবর, মুজিবর।  (১২) গানটির কথা লিখেছিলেন শ্যামল গুপ্ত এবং গানটিতে সুর দিয়েছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সুরকার বাপ্পী লাহিড়ী।   ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া অপর এক গান –           “আমার মন জুড়ানো চোখ জুড়ানো।” (১৩)   আব্দুল লতিফের লেখা হৃদয় জুড়ানো গানটি ছিল এইরূপ –         “সোনা সোনা লোকে বলে সোনা         সোনা নয় ততো খাঁটি         বলো যত খাঁটি তার চেয়ে খাঁটি         বাংলাদেশের মাটিরে আমার জন্মভূমির মাটি         ধন্য মানি জীবনটাকে এই বাংলাকে ভালোবেসে।” (১৪)   এ ব্যতীত এ প্রসঙ্গে বলা যায়, ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্দার আলাউদ্দিন আহমেদের লেখা, সুরে ও কণ্ঠে ধ্বনিত হয় বিখ্যাত যে গান—         “মুজিব বাইয়া যাওরে         নির্যাতিত দেশের মাঝে         জনগণের নাওরে মুজিব         বাইয়া যাওরে।”   (১৫)   এই গানটির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলার ঘরে ঘরে …

মুক্তিযুদ্ধের গান Read More »